ভৈভব (VAIBHAV) শিখর সম্মেলন ২০২০

For Sharing

৫৫টি দেশের ৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে ‘বৈশ্বিক ভারতীয় বৈজ্ঞানিক’ বা VAIBHAV শিখর সম্মেলন ২০২০ শুরু হয়েছে। প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় বিজ্ঞানী, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। ভারত সরকারের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টার নেতৃত্বে ২০০টি ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এস অ্যান্ড টি বিভাগ এই ভার্চুয়াল শিখর সম্মেলনের আয়োজন করেছে।  ৪০টি দেশ থেকে প্রায় ৭০০ জন এবং বিশিষ্ট ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এসঅ্যান্ডটি বিভাগের ৬২৯জন বিজ্ঞানী ২১৩টি অধিবেশনে ১৮ টি বিভিন্ন বিভাগে ৮০টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।  

৩রা অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২৫ শে অক্টোবর পর্যন্ত এই আলোচনা চলবে। ২৮শে অক্টোবর চূড়ান্ত আলোচনা হবে। ৩১ শে অক্টোবর চসর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী উদযাপনের উপলক্ষ্যে এই শিখর সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় এক মাস ধরে ওয়েবিনার ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদেশী এবং ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা একাধিক স্তরের এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন। 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আরও বেশী সংখ্যায় তরুণদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো উচিত। তিনি আরো বলেন, ২০২৫’এর মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণ যক্ষ্মা মুক্ত করা ভারতের লক্ষ্য।  

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন,”এখন আরও বেশী সংখ্যায় যাতে তরুণরা বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হন তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আমাদের অবশ্যই ইতিহাসের বিজ্ঞান এবং সেই সঙ্গে বিজ্ঞানের ইতিহাস সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হবে”। তিনি আরও বলেন, “বৈভব শিখর সম্মেলন ২০২০ ভারত ও বিশ্বের বিজ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনের উদযাপন করে। তিনি বলেন, “আমি একে অসাধারণ মস্তিষ্কের এক প্রকৃত সঙ্গম বলব, যার মাধ্যমে আমরা ভারত তথা আমাদের গ্রহের ক্ষমতায়নের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মিলিত হয়েছি।”  

শ্রী মোদী বলেন, আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হওয়ায় ভারত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকাশে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতিষেধকের বিকাশ এবং টিকা কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভারতের অপরিসীম প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন।  

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমাদের টিকাদান কর্মসূচিতে চারটি নতুন প্রতিষেধক চালু করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয়ভাবে তৈরী রোটা ভ্যাকসিন। প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালের মধ্যে ভারতে যক্ষ্মা দূরীকরণের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রয়াসের কথাও উল্লেখ করেন।                                                                                                      শ্রী মোদি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’র কথাও উল্লেখ করেন যা তিন দশক পরে বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ গ্রহণের পরে আনা হয়েছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য হল,  বিজ্ঞানের প্রতি কৌতূহল বাড়ানো এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে প্রয়োজনীয় উত্সাহদান। 

প্রধানমন্ত্রী ভারতের অগ্রণী মহাকাশ সংক্রান্ত নীতির সংস্কারের কথাও উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে শিল্প এবং শিক্ষাক্ষেত্রের জনয় বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রধানমন্ত্রী লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি – সিইআরএন এবং আন্তর্জাতিক তাপবিদ্যুৎ পরীক্ষামূলক চুল্লি – আইটিইআর-এ ভারতের অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ ক’রে আন্তর্জাতিক স্তরে বিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সুপার কমপিউটিং এবং সাইবার   ফিজিক্যাল সিস্টেমে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির উল্লেখ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, সেন্সর এবং বিগ ডেটা য়ানালিসিসের মতো ক্ষেত্রে  মৌলিক গবেষণা এবং তার প্রয়োগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন,এটি ভারতের স্টার্ট-আপ ক্ষেত্র এবং উত্পাদনক্ষেত্রকে আরো উজ্জীবিত করবে।  

শ্রী মোদি বলেন, বৈভব সম্মেলন সংযোগ স্থাপন এবং অবদান রাখার ক্ষেত্রে ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ভারত যখন সমৃদ্ধ হবে, বিশ্বও তখন অগ্রসর হতে পারবে। বৈভবকে মহান মস্তিস্কের সংহতি হিসাবে উল্লেখ ক’রে তিনি বলেন, এই   প্রচেষ্টাগুলি ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সম্মিলনের মাধ্যমে সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আদর্শ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে । 

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় বিশ্বের মঞ্চে ভারতের অসাধারণ প্রতিনিধি। এই শিখর সম্মেলনের লক্ষ্য হবে, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন। কৃষকদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা  ভারতের লক্ষ্য। এই শিখর সম্মেলন শিক্ষাদান এবং গবেষণায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা লাভের পথ প্রশস্ত করবে। প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের এই সমস্ত প্রয়াস আদর্শ গবেষণা ব্যবস্থার সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।    

এই শিখর সম্মেলনের লক্ষ্য হল, বর্তমান বিশ্বের সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে উদীয়মান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী ভারতীয় গবেষকদের দক্ষতা এবং জ্ঞানের কার্যকর প্রয়োগের জন্য একটি পথ নির্দেশিকা তৈরি করা। প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা অধ্যাপক কে বিজয় রাঘবন এবং কম্পিটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন, সোনো- কেমিস্ট্রি, হাই এনার্জি ফিজিক্স, উত্পাদন প্রযুক্তি, পরিচালনা, ভূ-বিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন, মাইক্রোবায়োলজি, আইটি সুরক্ষা, ন্যানো-মেটেরিয়াল, স্মার্ট ভিলেজ এবং ম্যাথেমেটিক্যাল সাইন্সের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণারত মার্কিন  যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডের ১৬ জন বিশেষজ্ঞ উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।     

(মূল রচনাঃ পদম সিং)