ভারতে বাজার ব্যবস্থা ও জন মানসিকতায় দ্রুত রুপান্তরণ ঘটছে-প্রধানমন্ত্রী

For Sharing

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারতে বাজার ব্যবস্থা জন মানসিকতা দুটি ক্ষেত্রেই দ্রুত রূপান্তর ঘটছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কানাডায় অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্ট ইন্ডিয়া’ সম্মেলনে তাঁর ভাষণে বলেছেন, বিনিয়োগের আকর্ষণ স্থল হিসেবে গণ্য হতে হলে যে সব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, বর্তমানে ভারত সেই সব শর্ত যথাযথ পূরণ করছে। তিনি বলেন, ভারতে আছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও ব্যবসা বান্ধব নিয়ম কানুন, প্রশাসনে সচ্ছতা, দক্ষ শ্রমিক এবং বিশাল বাজার। শ্রী মোদি বলেন কোভিড-১৯ পরবর্তী বিশ্বে ভারত বিভিন্ন ধরনের সংস্কার, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংস্কার সাধনে তার দক্ষতা প্রদর্শন করেছে। তিনি আরো জানান কোভিড-১৯ জনিত সর্বস্তরে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রায় ৪০ কোটি কৃষক, মহিলা, গরীব ও দুস্থ মানুষের কাছে মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে তাদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রচেষ্টার উল্লেখ করেন এবং তিনি বলেন, এইসব প্রতিকূল অবস্থা কাটিয়ে উঠে ভারত একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ সরকারি প্রশাসন ব্যবস্থা জনগণকে উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সম্পূর্ণ লকডাউন চলাকালীন ভারত বিশ্বের প্রায় ১৫০ টি দেশের কাছে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ও চিকিৎসা উপকরণ পৌঁছে দিয়েছে। তিনি বলেন মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে কৃষি রপ্তানি বেড়েছে ৩০ শতাংশের মত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা অতিমারি দেখা দেওয়ার আগে ভারত আদৌ পি পি ই কিট তৈরি করতো না; কিন্তু আজ ভারত এখন প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ পি পি ই কিট তৈরি করছে। শুধু তাই নয়, দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে তা রপ্তানিও করা হচ্ছে। তিনি বলেন কোভিড-১৯’এর জন্য ভ্যাকসিন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারত সমগ্র বিশ্বকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করে যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের উন্নয়ন প্রক্রিয়া কিভাবে দিন দিন শক্তিশালী হয়ে উঠছে তা দেখাতে সরকারের গৃহীত বেশকিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন; যেমন একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, এফডিআই জমানার উদারীকরণ ,একটি ন্যায্য কর ব্যবস্থা, শক্তিশালী বন্ড বা ঋণপত্র বাজার এবং ওষুধপত্র উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি বলেন বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণের উদ্দেশ্যে সরকার একটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত সচিবদের দল তৈরি করেছে, যারা লাল ফিতার ফাঁস ও যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা দূর কোরে তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসবেন। তিনি জানান, বিমানবন্দ্‌র, রেলওয়ে, মহাসড়্ক, বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রণালী প্রভৃতি ক্ষেত্রে ব্যাপক বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি ভূসম্পত্তি বিনিয়োগ ট্রাস্ট ও পরিকাঠামো বিনিয়োগ ট্রাস্টের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের ভারতে জনগণের মানসিকতায় যেমন পরিবর্তন হচ্ছে তেমনি বাজারব্যবস্থাতেও পরিবর্তন হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্ব উদ্ভাবন সূচক র্যাং কিং’এ ভারত এখন ১৮০তম স্থান থেকে ৪৮ তম স্থানে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, গত পাঁচ বছরে সহজে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির নিরিখে বিশ্বব্যাংকের সূচক তালিকায় ভারত ১৪২ তম স্থান থেকে ৬৩ তম স্থানে উঠে এসেছে। তিনি বলেন, এ বছরের প্রথম ছয় মাসে যখন দেশে covid-19 সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছে ছিল, সেই সময়ে ভারত প্রায় কুড়ি বিলিয়ন ডলার এফডিআই বা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ কোরতে পেরেছে। বলেন বিভিন্ন ত্রাণ ও সুবিধা প্যাকেজের আওতায় দরিদ্র মানুষ, ছোট ব্যবসায়ী এবং মাঝারি ব্যবসায়ীদের নানা আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ভারত সমগ্র অর্থব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার সাধনের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির স্তর উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষা ও কৃষি ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে। তিনি জানান পুরনো সেকেলে আইনগুলির সংস্কার সাধন করে সেগুলিকে সময় উপযোগী করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বেসরকারি ক্ষেত্র সরকারের সঙ্গে যাতে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে পারে সেজন্য সরকার একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে যাতে শিল্পোদ্যোক্তাগণ এবং আমাদের শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যেকেই উপকৃত হতে পারেন এবং প্রত্যেকেরই স্বার্থ বজায় রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এইসব সংস্কার সাধনের ওপর নির্ভর করে ভারত স্বনির্ভর বা আত্মনির্ভর ভারত হয়ে উঠবে; এবং তার একটি উপযুক্ত ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। একটি আত্ম নির্ভর ভারত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে পারবে। তিনি বলেন, ভারত, কারখানাজাত উৎপাদন ক্ষেত্রে, কৃষিক্ষেত্রে, পরিষেবা ক্ষেত্রে ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লগ্নির একটি উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আমাদের পারস্পরিক অভিন্ন স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি বলেন, দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংযোগ আমাদের বহুমুখী সম্পর্কের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন ক্যানাডায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ও সবচেয়ে অভিজ্ঞ পরিকাঠামো বিনিয়োগকারীরা রয়েছেন। তিনি জানান, কানাডার পেনশন তহবিল সর্ব প্রথম ভারতে সরাসরি বিনিয়োগ করতে এগিয়ে এসেছে এবং তাদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যেই ভারতের মহাসড়ক, বিমানবন্দর টেলিযোগাযোগ , ভূ সম্পত্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের যে বিপুল সুযোগ রয়েছে তা সন্ধান করতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান কানাডার অভিজ্ঞ লগ্নীকারকরা, যাঁরা ভারতে বহুদিন ধরে কাজ করছেন তাঁরা এখন আমাদের সবচেয়ে ভালো ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কাজ করতে পারবেন এবং এর ফলে ভারতে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের যে অপার সুযোগ রয়েছে তার সুফল সারাবিশ্ব পেতে পারবে। (মূল রচনা কৌশিক রায়)