আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ভারত-আফগানিস্তানের উন্নততর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রয়াস  

For Sharing

২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় শুরু হওয়া আফগান সরকার ও তালিবানদের মধ্যে শান্তি আলোচনার মাঝে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী এবং বর্তমানে জাতীয় আপোশরফা উচ্চ পরিষদের চেয়ারম্যান ড. আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ পাঁচ দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন। এই সফরকে বর্তমান শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য এই অঞ্চলে ঐকমত্য গঠনের প্রয়াস হিসাবে দেখা হচ্ছে। ভারতের আমন্ত্রণে ড. আবদুল্লার এই সফর সম্প্রতি ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে উচ্চ-স্তরে বিভিন্ন আলোচনার ধারাবাহিকতায় আর একটি সংযোজন। তার আগে, আফগান আপোশরফা সম্পর্কিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি, জালময় খলিলজাদ এবং বিশিষ্ট আফগান নেতা আবদুল রশিদ দোস্তুম সেপ্টেম্বরে ভারত সফর করেছিলেন।

ডঃ আবদুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সাথে দেখা করেন,  এবং  বর্তমান আফগান শান্তি আলোচনার জন্য আশ্বাস ও সমর্থন চান। ভারতীয় নেতৃত্ব আফগান-তালিবান আলোচনার প্রতি “সম্পূর্ণ সমর্থন” ব্যক্ত করেছে। গত মাসে ড. এস জয়শঙ্কর আফগান নেতৃত্বাধীন, আফগান-মালিকানাধীন এবং আফগান-নিয়ন্ত্রিত আলোচনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শান্তি আলোচনার উদ্বোধন করেন। দোহা আলোচনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দলও ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত ছিলেন। আফগানিস্তান ভারতকে তালিবানদের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে বলে ব্যাপক অনুমান করা হয়েছে। ভারত এখনও পর্যন্ত তালিবানদের সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়ার প্রশ্নে বিস্তারিত কিছু জানায় নি। সেই কারণে আলোচনায় বিদেশমন্ত্রীর ভাষণকে আফগান দৃষ্টিকোণ থেকে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

ডঃ আবদুল্লাহ  উল্লেখ করেন যে আফগানিস্তানের ভবিষ্যত গঠনে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ভারত এবং আফগানিস্তান গভীর ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ রয়েছে । দীর্ঘ বছর ধরে দু দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে। আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতায় ভারতের বিশাল অবস্থান রয়েছে কারণ সেখানকার পুনর্গঠন প্রয়াসে ভারতের  ব্যাপক অবদান রয়েছে। পাকিস্তান-তালিবান আঁতাতের বিরুদ্ধেও দৃষ্টি রাখা দরকার, কারণ এটি ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে অনবরত কাজ করে চলেছে। ফলস্বরূপ, ভারতকে অবশ্যই এমন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যা নতুন বাস্তবতার মোকাবিলা করতে সক্ষম।  আফগানিস্তানের রাজনীতি এবং সুরক্ষার ক্ষেত্রে যাদের আধিপত্য রয়েছে  সেই তালিবানদের সঙ্গে আলোচনা ব্যতিরেকে আফগানিস্থানে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় এখন এটি  উপলব্ধি করা গেছে।    আমেরিকা ও তালিবানদের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির শান্তি চুক্তির  আওতায় বর্তমান আন্ত-আফগান শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে  যে আমেরিকা আফগানিস্তানে তাদের দীর্ঘ উপস্থিতির অবসান ঘটাতে তালিবানকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত  করছে। এর ফলে গত দুদশকের বেশি সময়ে তাদের প্রচুর সহায় সম্পদ নষ্ট হয়েছে।   

ভারতসহ সমস্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে  একটি সর্বাত্মক ও স্থায়ী শান্তি ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট হতে হবে। 

একটি লক্ষণীয় দিক হ’ল আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদের সহযোগিতা চেয়ে  আফগান নেতৃত্ব পাকিস্তানেরও দ্বারস্থ হয়েছে। । এর আর একটি কারণ হল পাকিস্তান তালিবানদের দীর্ঘকাল থেকে প্রভাবিত করে আসছে।  তাই, পাকিস্তানের কঠোর সমালোচক ডঃ আবদুল্লাহকেও এখন পাকিস্তানী  নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখা যাচ্ছে। তালিবানের সঙ্গে  পাকিস্তানের যোগাযোগ থাকার কারণে মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি খলিলজাদও ইসলামাবাদ সফর করেন। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্যে প্রত্যাহার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা আগামী সপ্তাহগুলিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

আফগানিস্তান নেতৃত্ব সম্ভবত ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক  সমীকরণের কথা মাথায় রেখে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে। যদিও আফগানিস্তান-পাকিস্তান সহযোগিতা নিয়ে ভারতের কোনও আপত্তি নেই, তবুও দেখতে হবে যে পাকিস্তান সীমান্তপারে হিংসায় উসকানি না দেওয়ার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে কতটা সক্ষম। 

আফগানিস্তান আবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে আফগানিস্তান কীভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তা পাকিস্তানকে কতটা শক্তিশালী করে সেই সব বিষয়ের প্রতি এখন  ভারতকে নিবিড়ভাবে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে হবে। 

ভারত, আফগান শান্তি প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছে, আফগান নেতৃত্বকে সতর্কও করে দিয়েছে যে আফগানিস্তানের মাটি থেকে হিংসা সম্পূর্ণ অবসান হওয়া উচিত। আফগানিস্তানে সংখ্যালঘু ও নারীদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টিও ভারত উত্থাপন করেছে এবং এর ফলে আফগানিস্তানে হানাফি ইসলামকে চাপিয়ে দেবার  তালিবান প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে ভারত নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছে। (মূল রচনা: ডঃ প্রিয়াঙ্কা সিং)