ভারতে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসঃ একটি উত্তম পদক্ষেপ

For Sharing

একথা সর্বজনবিদিত যে শিক্ষা সামাজিক পরিবর্তনের এক অত্যাবশ্যক উপকরণ। বিজ্ঞান শিক্ষার উদ্দেশ্য হল সক্ষমতা সহ সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো। শুরু থেকেই বিজ্ঞানের পাঠদান তাই প্রাকৃতিক কৌতূহল বাড়িয়ে তুলবে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষাকে উত্সাহিত করবে বলে আশা করা হয়। এটি হল পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং তারপর একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছনো মাধ্যম। সংক্ষেপে একে একটি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী বলা হয়। স্কুল পর্যায়ে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে লালন করা হয়।

আজকের বিশ্বে জ্ঞান অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উন্নয়নশীল দেশের মানব সম্পদ বিকাশের জন্য এর সঞ্চার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের সঙ্গে আর্থ-সামাজিক বিকাশের জন্য ভারতে বিজ্ঞান শিক্ষাদান এবং শিক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের হয়ে ওঠা জরুরি।

গত মাসে গুয়াহাটি আই আই টির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেন যে দেশের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন মেটাতে শিক্ষাব্যবস্থা উন্মুক্ত করা হবে। তিনি বলেন যে নতুন শিক্ষানীতি ২০২০ এর অধীনে নামকরা বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভারতে তাদের অফশোর ক্যাম্পাস স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। এটি ভারতে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্বের দরজা খুলে দেবে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী প্রতি বছর বিদেশী ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে উচ্চতর শিক্ষালাভের জন্য বিদেশে গিয়ে থাকেন। এই পদক্ষেপ ভারতকে শিক্ষার একটি প্রধান আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন যে দেশে গবেষণা ও উন্নয়নের প্রসারের জন্য নামকরা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা এবং বিনিময় কর্মসূচি উন্নত করা হবে। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ভবিষ্যতের প্রস্তুত হতে হবে।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ভারতে শিক্ষা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ, সম্প্রসারণ ও বিকাশের দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর। পরবর্তী কয়েক দশকে শিক্ষার কেন্দ্রগুলি পরিমাণগত এবং গুণগত দিক থেকে ভালোভাবে বিকশিত হয়েছে। মেডিসিন, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যানেজমেন্ট এবং হিউম্যানিটিস পড়ানোর জন্য বেশ কয়েকটি প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয় এবং দেশে শিক্ষার এক বৃহৎ পরিকাঠামো তৈরি হয়।

ভারত তার জিডিপির ৬ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষা খাতে ব্যয় করে আসছিল। তবে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানের ক্রমবর্ধমান সুযোগ এবং নতুন উদ্ভাবনের ফলে, উপলব্ধি হতে থাকে যে ভারত তার আই আই টি এবং আই আই এম-এর সাফল্যে আর সন্তুষ্ট থাকতে পারে না। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলিতেও শিক্ষার মান বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে এটি করার জন্য প্রয়োজনীয় বিশাল ব্যয় একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে সামনে আসে।

প্রাথমিকভাবে উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা প্রদান, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য আর্থিক সহায়তার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু এই ব্যবস্থাগুলি পর্যাপ্ত ছিল না। তাই ১৯৯০-এর পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ধাঁচে ভারতে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা গৃহীত হয়। মনে করা হয়েছিল যে তারা দেশে প্রযুক্তিগত শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাবে এবং ভবিষ্যতে দেশকে স্বনির্ভর করবে।

বেশ কিছু উদ্যোক্তা এগিয়ে আসেন এবং সর্বভারতীয় প্রযুক্তি শিক্ষা পরিষদের অনুমোদন নিয়ে সারা দেশে তাদের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। তবে ধীরে ধীরে অনুভূত হয় যে সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা স্নাতকদের গুণগত মান যথাযথ নয়।
জাতীয় ইলেকট্রনিক ও তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (এন আই ই এল ইটি) এবং এই ধরণের অন্যান্য সংস্থার অধীনে তাদের চাকুরী যোগ্যতা উন্নয়নের জন্য সরকারকে অব্যাহত শিক্ষা এবং দক্ষতা বিকাশের প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করতে হয়। জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকার যথাযথভাবে ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের দিকে মনোনিবেশ করেছে। এ বছর সরকার শিক্ষা খাতে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ।
খ্যাতনামা বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য শিক্ষা ক্ষেত্র খুলে দেবার ফলে ভারতে প্রযুক্তিগত শিক্ষার মান যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীদের চাকুরীপাওয়ার যোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে এবং সমৃদ্ধ শ্রমশক্তির দরুণ দেশ সমৃদ্ধ হবে এ আশা করাই যেতে পারে। (মূলরচনা: ডাঃ অমলেন্দু শেখর)