ভারত বৌদ্ধ তীর্থপথ উন্নয়নে দ্রুতগতিতে কাজ করছে

For Sharing

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা এ বছর ২৪শে জুন কুশিনগর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্যাদা দিয়েছে। উত্তর প্রদেশের এই বিমানবন্দর ভারত এবং নেপালের অনেক বৌদ্ধ তীর্থস্থলের নিকটে অবস্থিত আর দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় থেকে আগত বৌদ্ধ পর্যটকদের সরাসরি পৌঁছনো সম্ভব হবে।
কুশিনগর বৌদ্ধ পর্যটকদের জন্য একটি দর্শনীয় স্থল যেখানে খৃষ্টপূর্ব ৪৮৩ সালে ভগবান বুদ্ধ মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন। কুশিনগরে ছোট বড় দু’ধরনের বিমান ওঠানামার জন্য ৩২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে। অন্যান্য সংস্কার ও আধুনিকীকরণের কাজও প্রায় শেষের পথে। ভারতে ও বিদেশে কোভিড-১৯ অতিমারির জেরে ঘোষিত আন্তর্জাতিক উড়ানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবার পরই এই বিমানবন্দর খুলে দেওয়া হবে। কুশিনগর, এই অঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি বৃহত্তর বৌদ্ধ জনসংখ্যার দেশগুলির দর্শনার্থীদের জন্য একটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কুশিনগর বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের সঙ্গে সঙ্গে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিহার এবং উত্তর প্রদেশের বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলির সঙ্গে সংযোগকারী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে ১০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পরিকাঠামো প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হবে।
IRCTC গত বছর অক্টোবরে বৌদ্ধ সার্কিট ট্রেনের সূচনা করেছে। এই ট্রেন পর্যটকদের এমন একটি প্যাকেজ দিচ্ছে যেখানে গোরফখপুরের পরে তাঁদের ডিলাক্স এসি বাসে করে নেপালে গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। সফরের অংশ হিসেবে এ সি ট্রেনে করে পর্যটকদের বিহারের বোধগয়া যেখানে ভগবান বুদ্ধ সম্যক জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, বারানসির সারনাথ যেখানে বুদ্ধদেব প্রথম উপদেশ দিয়েছিলেন, নালন্দা এবং রাজগির- বুদ্ধের বাসস্থান এবং বৌদ্ধধর্ম প্রচার শুরু করেছিলেন এবং কুশিনগর যেখানে ভগবান বুদ্ধ মহাপরিনির্বাণ লাভ করেছিলেন, সেই সমস্ত স্থানে পর্যটকদের এ সি ট্রেনে করে নিয়ে যাওয়া হবে।
পর্যটকরা মধ্য প্রদেশের ঐতিহাসিক সাঁচি স্তূপের সঙ্গে সঙ্গে নেপালের লুম্বিনিও সফর করে। এই সমস্ত জায়গাগুলি এবং অন্যান্য রাজ্যের বৌদ্ধ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় জায়গাগুলিতে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী সহ জাপান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির পর্যটকরা প্রতি বছর এই স্থলগুলি পরিদর্শন করেন।
এই সব স্থানে আন্তর্জাতিক তীর্থযাত্রীদের সুবিধার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় দিশা নির্দেশ বোর্ডের ওপর লেখা থাকে। ভারতে চীনের মূল ভূখণ্ড এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে প্রচুর চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী এই সব স্থান দর্শন করতে আসেন তাই চীনা সহ থাই ও জাপানি ভাষার বোর্ড লাগানো থাকে। এই বোর্ডগুলি প্রধানত সারনাথ, কুশিনগর ও শ্রাবস্তিতে লাগানো হয়েছে। শ্রীলংকায় সর্বাধিক তীর্থযাত্রী সাঁচিতে আসেন তাই সেখানে সিনহালা ভাষায়ও বোর্ড লাগানো হয়েছে।
ভারতে বৌদ্ধধর্ম প্রথমে শ্রীলঙ্কা এবং পরে অন্যান্য দেশে পৌঁছেছে আর এর ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, সামাজিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ নতুন দিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বুদ্ধধর্ম সম্মেলনে যথার্থই বলেছেন যে, ভারত থেকে বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধধর্মের বিস্তার বিশ্বায়নের প্রথম ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২০ সালের ১৫ই অগাস্টে জাতির উদ্দেশে তাঁর ভাষণে বলেন, আমাদের সামুদ্রিক প্রতিবেশী আসিয়ান দেশগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং আধ্যাত্মিক সম্পর্ক বজায় রাখতে বৌদ্ধধর্মের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে এই সমস্ত দেশের হাজার বছরের পুরনো ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহ্যগুলি তাদের সাথে আমাদের সংযুক্ত করে।
যদিও ভারত বৌদ্ধধর্মের আবাসস্থল, তবে মনে করা হয় যে, বিশ্বের বৌদ্ধ পর্যটকদের কেবলমাত্র একটি ছোট অংশই এখানে আসে। বিশ্বমানের বৌদ্ধ পরিমন্ডল ছাড়াও, বিদেশ থেকে আরও বেশি তীর্থযাত্রী এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য ভারত বড় ধরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রস্তুত রয়েছে। (মূল রচনাঃ রতন সালদি)