ভারত ও ইতালীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন

For Sharing

ভারতের বিদেশ নীতির অন্যতম লক্ষ্য হল ইওরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করা এবং তা ফলপ্রসূ হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড এবং ফ্রান্সের মত অনেক ইওরোপীয় দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক করেছেন। এর ফলে শক্তিধর ইওরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে সম্পর্কে নতুন করে ভারসাম্য স্থির করার প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত জরুরী।
ইতালীর নেতার সঙ্গে বৈঠকে প্রাথমিক মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোভিড ১৯ অতিমারীর মোকাবিলায় ইতালীয়ার প্রয়াসের প্রশংসা করেন এবং এই রোগ প্রতিরোধে সব রকম সহায়তার আশ্বাস দেন। তাছাড়া এই মহামারীর প্রতিকূল প্রভাব কাটিয়ে ওঠার উপায় নিয়েও কথাবার্তা বলেন। নেতারা জি-২০তে তাদের নিজ নিজ সভাপতিত্বের জন্য উন্নয়নমূলক আন্তর্জাতিক কর্মসূচির বিষয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন যাতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত ক্ষেত্রে কোভিড ১৯এর প্রভাবের মোকাবিলা করা যায়। বিনিয়োগ, বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, শক্তি, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং, মৎসচাষ, জাহাজ নির্মাণ, নকশা তৈরি, স্মৃতিস্তম্ভ পুনরুদ্ধার এবং সংরক্ষণ ইত্যাদির মত ক্ষেত্রে মোট ১৫টি সমঝোতা স্মারক পত্র এবং চুক্তি স্বাক্ষরতি হয়েছে।
শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি এবং কর্ম পরিকল্পনা ২০২০-২০২৪এ মৌলিক অঞ্চল হিসেবে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওপর উভয় পক্ষ গুরুত্ব আরোপ করে। এখানে অবাধ ও ন্যয় সংগত নিয়ম ভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃংখলার প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে ফ্রান্স এবং জার্মানী সম্প্রতি ভারত-প্রশান্ত মাহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতার বিষয়ে নিজ নিজ নীতি কৌশল প্রকাশ করেছে এবং এই অঞ্চলে ইতালীর আগ্রহ, ইওরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার লক্ষ্যে ভারতের সামনে নানান সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
ভার্চুয়াল শিখর বৈঠকে প্রতিরক্ষা, জঙ্গী দমন এবং নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিকতা, শিক্ষার্থী কর্মসূচি বিনিময়, সাংস্কৃতিক উৎসব, পর্যটন, মানুষে মানুষে সম্পর্ক ইত্যাদির মত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো বৃদ্ধির বিষয়ে ভারত ও ইতালী জোর দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রধানমন্ত্রী কোন্টে যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি এবং মিলিটারী সহযোগিতা গ্রুপের মধ্যে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে দুমুখি সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে উভয় পক্ষ বিশেষ করে জি ২০র মত বহুপাক্ষিক মঞ্চে ঘনিষ্ট সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয়েছে। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন এবং প্যারিস চুক্তি রূপায়ণের বিষয়েও সহমত পোষণ করা হয়। ভারত আন্তর্জাতিক সৌর জোটে ইতালীর যোগদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।
সমস্ত স্তরে রাজনৈতিক বিনিময় এবং নীতি সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে উভয় পক্ষ অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রতি আলোকপাত করার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করেন। ২০১৯এ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯.৫২ বিলিয়ন ইওরো। প্রায় ৬০০র মত বৃহৎ ইতালীয় কোম্পানী ফ্যাশন এবং পোশাক, বস্ত্র এবং বস্ত্রক্ষেত্রের যন্ত্রপাতি, গাড়ির যন্ত্রাংশ,পরিকাঠামো, রাসায়নিক পদার্থ, শক্তি, কনফেকশনারী এবং বীমা ক্ষেত্রে ভারতে সক্রিয় রয়েছে। উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ সংক্রান্ত অভিনব আর্থিক কর্মসূচি উন্নয়নে সহমত প্রকাশ করেন।
পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ভারত- ই ইউ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির বিষয়ে ত্বরায় আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য ভারত ও ই ইউ এর সক্রিয় হবার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ভারত ও ইতালীর নেতৃবৃন্দ অগ্রাধিকার, নীতিকৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা এবং ২০২০-২০২৫ অবধির জন্য দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের ব্যবস্থাপনা স্থির করার লক্ষ্যে একটি কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। (মূল রচনাঃ ড.সংঘমিত্রা শর্মা)