SCO সদস্যদের আঞ্চলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

For Sharing

রাশিয়ার নেতৃত্বে ৮ সদস্য দেশের সাঙ্ঘাই সহযোগিতা সংগঠন SCO’র ভার্চুয়াল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের জনগণের স্বাস্থ্যের ওপর করোনা ভাইরাসের ব্যাপক প্রভাব এবং এর ফলস্বরূপ গুরুতর আর্থ-সামাজিক পরিণতির প্রেক্ষাপটেই এই SCO সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই সংস্থা বিশ্ব ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে।
সাঙ্ঘাই সহযোগিতা সংগঠনের ভার্চুয়াল সম্মেলনে ভাষণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এই সংস্থার প্রতি দক্ষতাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং করোনা অতিমারির কারণে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই সম্মেলনের আয়োজনের জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদি, সদস্য দেশগুলিকে একে অপরের আঞ্চলিক অখন্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সাঙ্ঘাই সহযোগিতা দেশগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারত বিশ্বাস করে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের জন্য একে অপরের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখন্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা জরুরী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সাঙ্ঘাই সহযোগিতা সংগঠন সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখন্ডতা, রাষ্ট্রীয় সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা, আগ্রাসন প্রতিরোধ এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এই বিষয়সমূহ সহ অন্যান্য বিষয়েও জোর দেয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে লাদাখে ভারত-চিনের সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা LAC অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা বিশেষ অর্থবহ। উভয় দেশ বর্তমানে উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তৎপর। দুই দেশের সীমান্তে সামরিক অবস্থানের শান্তিপূর্ণ সমাধান সদস্য দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
SCO’র মত বহুপাক্ষিক মঞ্চে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা তুলে ধরার পাকিস্তানের প্রয়াসকে অপ্রাসঙ্গিক বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক যে, SCO’র অ্যাজেন্ডায় বারবার অপ্রয়োজনীয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে যা সাঙ্ঘাই সহযোগিতা সংগঠনের নীতি বিরুদ্ধ। স্মরণ করা যেতে পারে যে, শ্রী মোদি গত বছর বিসকেক-এ SCO সম্মেলনের পাশাপাশি চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন ফিংকে বলেছিলেন, ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখতে উদ্যোগী হয়েছিল কিন্তু এই প্রয়াসকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের উচিত সন্ত্রাসবাদমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা। প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এই সংস্থার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে করোনা অতিমারির সময় ভারত বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ওষুধ সরবরাহের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি ২০২১ সালে SCO’র ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ‘SCO’র সাংস্কৃতিক বছর’ উদযাপনে ভারতের পূর্ণ সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই উপলক্ষ্যে ভারতের উদ্যোগে দেশের জাতীয় জাদুঘরে বৌদ্ধধর্মের ঐতিহ্য নিয়ে প্রথম এস সি ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এছাড়া এই উপলক্ষ্যে এস সি ও খাদ্য মেলা এবং রাশিয়া ও চীনা ভাষায় ১০টি আঞ্চলিক সাহিত্য কর্মের অনুবাদ প্রকাশিত হবে।
তাজিকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এমোমালি রহমনকে আগামী বছর SCO’র চেয়ারম্যান হবার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। শ্রী মোদি SCO কাউন্সিল অফ হেড অফ গভর্নমেন্টের পরবর্তী নিয়মমাফিক বৈঠকের আয়োজনের বিষয়ে ভারত প্রস্তুত বলে জানান। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এস সি ও বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব এস সি ও’র উদ্দেশ্যকে আরও প্রসারিত করার একটি সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গি এবং এর ফলে ভারত ও অন্যান্য সদস্য দেশগুলির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত হবে।
SCO’র সাফল্য সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং আস্থার ওপর নির্ভরশীল। সদস্য দেশগুলির মধ্যে অবিছিন্ন নিরাপত্তা দ্বিধা এবং বিশ্বাসের ঘাটতি এই সংস্থার বৃহত্তর এবং সম্মিলিত স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির SCO সংগঠনের প্রতি ভারতের সমর্থন প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
( মূল রচনাঃ রূপ নারায়ণ দাস)