BRICS ভার্চুয়াল শিখর সম্মেলন

For Sharing

আগামী বছর BRICS-এর ১৫ বছর পূর্তি হবে। ব্রিক্সের এই যাত্রাপথ সম্পূর্ণ স্বর্ণিম না হলেও, এই সংস্থার প্রতি সকলের উচ্চাশা রয়েছে। ভারতের ২০২১ সালে তৃতীয় বারের জন্য BRICS-এর দায়িত্বভার গ্রহণও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতের অনবদ্য অবদান, আন্তর্জাতিক সংস্থায় ভারতের সদস্য পদ ইত্যাদির ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ভারতকে যোগ্য সম্মান দিয়েছে। এমনকি প্রাক-স্বাধীনতা পর্বেও ভারত রাষ্ট্রসংঘ এবং একাধিক বিশ্ব সংস্থার সদস্য ছিল। আগামী বছর রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অষ্টম বারের জন্য ভারতের যোগদান কোন কাকতালীয় ঘটনা নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের উজ্জ্বল ভূমিকারই একটি দৃষ্টান্ত।
রাশিয়ার নেতৃত্বে দ্বাদশ BRICS ভার্চুয়াল শিখর সম্মেলনের মূল বিষয় ভাবনা ছিল- বিশ্ব স্থিতিশীলতা, অখণ্ড নিরাপত্তা এবং উদ্ভাবনী বিকাশ। যাকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাসঙ্গিক এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং বিকাশে চলতি ভূ-কৌশল পরিবর্তন কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা ব্যাখ্যা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক সংস্থাগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কার্যকারিতা কীভাবে একই মঞ্চে আসবে। শুধুমাত্র রাষ্ট্রসংঘ নয় WTO, IMF এবং BRICS-এর মত সংস্থাগুলির অর্থপূর্ণ সংস্কার প্রয়োজন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী BRICS সদস্যদের কাছ থেকে এই সংস্কার সাধনের প্রতি সমর্থন আশা করেন।
রাষ্ট্রসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিয় গুতেরেস সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তখনই বহুপাক্ষিকতা বিভিন্ন দিক দিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি একতরফা প্রত্যাহার, ঋণ পরিশোধ না করা, ভার্চুয়াল ভেটোস এর মত বিষয়ের ফলে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই জঘন্য কুকর্মকারীদেরই শুধু নয় এদের মদতকারীদের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবার কথা বলেন। তিনি BRICS সন্ত্রাস বিরোধী কৌশল চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং BRICS-এর ভারতের অধীনে এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রতি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
আন্তঃ-ব্রিক্স বাণিজ্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্রিক্স আন্ত-ব্যাংক সহযোগিতা কর্মসূচীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ভারতের ভ্যাকসিন নির্মাণ ক্ষমতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বনির্ভর এবং স্থিতিশীল ভারত দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
ব্রিক্সের যাত্রা নির্বিঘ্নে অনেক দূর এগিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি এক সঙ্কটময় সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সহযোগিতার প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর বিস্তার হচ্ছে। বিশ্বের উদীয়মান শক্তিশালী দক্ষিণের দেশগুলি ব্রিক্স গঠন করেছিল তখন তা অনেক আশা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল, তাই এই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গোষ্ঠীর সম্ভাব্যতার কারণে ব্রিক্স বেশ কিছু পশ্চিমি দেশগুলিতে বিভ্রান্তি, হিংসা এবং বিভ্রান্তিমূলক চিন্তাভাবনা উস্কে দিয়েছে। ব্রিক্স স্থির করেছিল যে, সদস্য দেশগুলিতে আন্তর্জাতিক বিষয়সমূহে এক লক্ষ্য এবং বিস্তৃত অবস্থান অনুসরণ করবে। কিন্তু পরে এমন ধারণা তৈরি হল যে, ব্রিক্স সহযোগিতা কাঠামো একটি বিশেষ সদস্য দেশের ক্ষমতার রাজনীতি এবং আগ্রাসী ভূমিকার জন্য এর অবস্থান থেকে সরে আসছে। যদি কোন সদস্য দেশ আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তাহলে ব্রিক্স গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের ফলেই রাষ্ট্রসংঘ এবং বহু আন্তর্জাতিক সংঘটন কি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে না?
সদস্য দেশগুলির ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সদস্য দেশ নয় এমন রাষ্ট্রের আপেক্ষিক শক্তিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্রিক্সকে পুনরায় নিজেকে আবিস্কার করতে হবে। যদি কোন এক সদস্য দেশ ব্রিক্সের আধিপত্য বিস্তার করতে চায় তাহলে এই সংস্থার বৃদ্ধি ক্ষুণ্ণ হবে। নিঃসন্দেহে আন্তঃ-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতায় বৃদ্ধি হয়েছে কিন্তু এর ফলে সামঞ্জস্যহীনভাবে চীন উপকৃত হয়েছে। ব্রিক্সকে উদ্ভাবনী বিকাশ করতে হবে। আইনস্টাইন বলেছিলেন, যে স্তরে কোন একটি সমস্যা তৈরি হয়েছিল, সেই একই স্তরে কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না, সমাধানের জন্য এর পরবর্তী স্তরে উঠতে হবে। (মূল রচনাঃ অ্যাশ নারায়ণ রায়)