ভারত পাকিস্তানের ‘অভিযোগ গুচ্ছ’ খন্ডন করেছে

For Sharing

গত সপ্তাহে, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে এক গুচ্ছ হাস্যকর অভিযোগ নিয়ে আসে। তবে ইসলামাবাদের এই সব অভিযোগকে কোনো দেশই পাত্তা দেয় নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি এবং ডিজি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ, জেনারেল বাবর ইফতিখার একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথাকথিত “ডসিয়র” প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়, ভারত আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করে সেখান থেকে পাকিস্তানে “সন্ত্রাসী” পাঠানো সহ বহু পাক বিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত আছে বলে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। অথচ ভারত নিজেই সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে আন্তর্জাতিক সহানুভুতি আদায়ের চেষ্ঠা করে যাচ্ছে।
স্পষ্টতই, পাকিস্তানের এই আচরণ “চালুনি ছূঁচের বিচার করে” এই ধরণের, আর এটা পাকিস্তান গত চার দশক ধরেই করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক মহল ভাল করেই জানে। আর এ কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বছর কয়েক আগে পাকিস্তানকে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছিল; সন্ত্রাসবাদে অর্থ সাহায্যের অভিযোগে বিশ্ব পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স-FATF গত ২ বছর ধরে ইসলামাবাদকে ‘ধূসর তালিকায়’ রেখেছিল এবং এখনও কোনও ছাড় দিতে অস্বীকার করেছে।
হায়দ্রাবাদের ইন্ডিয়ান স্কুল অফ বিজনেস সংস্থায় ‘ডেকান ডায়ালগ’-এ ভার্চুয়াল বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ জয়শঙ্কর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্ত সন্ত্রাসকে স্পনসর করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, বিশ্ব ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ভারত তার নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসে অর্থ সহায়তাকারি, মৌলবাদী মতাদর্শ প্রচারকারি এবং সাইবার নিয়োগে উৎসাহদানকারি দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরতে সফল হয়।
এর পরেই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রক পাকিস্তানের এই আচরণকে দেশে সরকার বিরোধী আন্দোলন থেকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি সরানোর কৌশল বলেই অভিহিত করে। আফগানিস্তানও, ভারতকে পাক বিরোধী সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য তার মাটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলি ইমরান খান সরকারকে পদচ্যুত কোরতে আন্দোলন শুরু করেছে। তাদের বক্তব্য, ইমরান সরকার সেনাবাহিনী দ্বারা “নির্বাচিত”,এর পিছনে জনগণের সমর্থন নেই বা তাঁদের দ্বারা নির্বাচিতও হয় নি।
পাকিস্তান এখন অন্য প্রতিবেশী দেশগুলিতে অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসাবে এই ডসিয়ার প্রচারের চেষ্টা করছে জনমত নিজেদের অনুকুলে আনার জন্য। নয়াদিল্লও এর মোকাবেলায় কূটনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছে। পাকিস্তান যদি মনে করে যে এই ডোসিয়র প্রচার করে আন্তর্জাতিক দুনিয়াকে তারা প্রভাবিত কোরতে পারবে তাহলে তারা নির্বোধের স্বর্গে বাস করছে। সমগ্র বিশ্ব পাকিস্তানের এই কৌশল সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল।

গত কিছু সময় পাকিস্তানের ক্রিয়াকলাপ এবং বিবৃতির মধ্যে একটি ভারত বিদ্বেষী স্পষ্ট প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলওসি) বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা ও এর জন্য ভারতকে আক্রমণকারী হিসাবে দায়ী করা।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভারত আগামী বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য দেশ হিসেবে দায়িত্ব পালন কোরতে চলেছে। পাকিস্তান, রাষ্ট্রসংঘে এই নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তবে ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির একটি হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে বলে যে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি হয়েছে, তাকে প্রভাবিত করার আশা তারা করতে পারে না বলেই অনুমান।
ইসলামাবাদে ভুলে যাচ্ছে যে আল কায়েদার সন্ত্রাসী মোস্ট ওয়ান্টেড ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানইই অ্যাবটাবাদ সেনানিবাস এলাকায় কমপক্ষে ৫ বছর ধরে লুকিয়ে ছিলেন। এছাড়াও, পাকিস্তানের মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী দেশের জাতীয় পরিষদে সম্প্রতি ঘোষণা করে যে গত বছর কাশ্মীরে পুলওয়ামা হামলায় ৪২ জন ভারতীয় সুরক্ষা কর্মীকে হত্যা ইমরান খান সরকারের পক্ষে একটি বড় সাফল্য ছিল।

এই ঘটনাগুলি ইতিমধ্যেই পাকিস্তানকে একটি নির্দোষ দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশের সব দাবিই নস্যাৎ করে দিয়েছে। পাকিস্তানের উচিত, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আর বিভ্রান্ত না করে নিজের দেশে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল কোরতে সচেষ্ট হওয়া। (মূল রচনাঃ- অশোক হ্যান্ডু )