চোখের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ভারতের সাফল্য

For Sharing

ভারত চোখের ক্যান্সারের চিকিৎসা ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি বিকশিত করেছে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন। এই পদ্ধতি ব্যয় সাশ্রয়ীও বটে। মুম্বাইএর ভাবা এ্যাটোমিক গবেষনা কেন্দ্র (বি এ আর সি) ওকুলার টিউমারের চিকিৎসার জন্য দেশে তৈরি রুথেনিয়াম ১০৬ প্লেক আকারে চোখের ক্যান্সার থেরাপী ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছে। 

চোখের টিউমারকে অকুলার টিউমারও বলা হয়। টিউমার হল কিছু কোষের একত্রে জমা হওয়া এবং অস্বাভাবিকভাবে তার বেড়ে ওঠা। এটি ম্যালিগন্যান্ট অর্থাৎ ক্যান্সারযুক্ত বা বিনাইন  অর্থাৎ ক্যান্সার ছাড়াও হতে পারে। এই সাধারণ ধরণে চোখের টিউমার হল মেটাস্ট্যাটিক, দ্বিতীয় টিউমার, এটি শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, সাধারণত ফুসফুস,স্তন, অন্ত্র বা প্রস্টেট থেকে হয়। 

আর একটি বিরল অকুলার মেলানোমা সাধারণত বয়স্কদের প্রাইমারী টিউমার যা হয় চোখে। কখনও কখনও একে বলা হয় ইভিয়াল মেলানোমা বা কোরোইডাল মেলানোমা। এটি চোখের পিগমেন্ট হওয়া কোষ থেকে গঠিত হয়, এবং চোখের তিনটি প্রধান স্থানে হয়ে থাকে, এগুলি হল আইরিস, সিলিয়ারী বডি এবং কোরইড। চোখের এই তিনটি স্থান মিলে হয় ইউভিয়া। 

কেন্দ্রীয় উত্তর পূর্বাঞ্চল সংক্রান্ত প্রতি মন্ত্রী ড.জিতেন্দ্র সিং আই ক্যান্সার থেরাপী উদ্ভাবনের জন্য মুম্বাইয়ের ভাবা এ্যাটমিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রশংসা করেন। এই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সার্জেনদের পক্ষে সুবিধাজনক এবং এই আন্তর্জাতিক মানে সমকক্ষ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। 

উল্লেখ করা যেতে পারে যে গত বছর অক্টোবর মাসে অটোমিক এনার্জী বিভাগের চেয়ারম্যান তথা সচিব ড. কে এন ব্যাস এ্যাটোমিক এনার্জী বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ড.জিতেন্দ্র সিং এর সঙ্গে এ্যাটোমিক এনার্জি বিভাগে চোখের প্যাচের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা বিকশিত করার সম্ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এর পর এ্যাটমিক এনার্জী বিভাগ নতুন দিল্লীর এ আই আই এম এস এর  ড.রাজেন্দ্র প্রসাদ সেন্টার ফর অপথালমিক সায়েন্সের সঙ্গে সহযোগিতা করে। পরে এ আই আই এম এস  বি এ আর সির বিকশিত প্লেক চোখের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের বিষয়ে একমত হয়। এরপর ২০২০এর সেপ্টেম্বরে প্রথম কোরোইডাল হেমাঙ্গিওমার এক রোগীর চিকিৎসার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় এবং ফলাফল সন্তোষজনক বলে জানানো হয়।  

রাজেন্দ্র প্রসাদ সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক ড. অতুল কুমার জানান এপর্যন্ত ভারতে তৈরি বি এ আর সির প্লেক সাতটি অকুলার ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তার মধ্যে দুটি রেটিনোব্লাস্টোমা, দুটি কোরোইডাল মেলানোমা, দুটি ওকুলার সারফেস স্কোয়ামোস নিওপ্লাসিয়া(ও এস এস এন) এবং একটি হল, কোরোইডাল হেমাঙ্গিওমা। তাঁর মতে এই প্লেকে কাজ করতে সার্জেনরা স্বচ্ছন্দ বোধ করে এবং প্রাথমিক  ফলাফল সন্তোষজনক।

এই সাফল্যের বিষয়ে মন্তব্য করে ড.জিতেন্দ্র সিং বলেন গত পাঁচ বছর ধরে এ্যাটোমিক এনার্জী বিভাগ সাধারণ নাগরিকের উপকারে নানান কাজ কর্ম এবং প্রয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চোখের ক্যান্সারের জন্য প্লেক থেরাপী এই ধরণের সর্বশেষ প্রয়াস। তিনি জানান এই পদ্ধতি রোগীদের জন্য সরল ও ব্যয় সাশ্রয়ী এক বিকল্প প্রদান করেছে। 

এদিকে, ড.জিতেন্দ্র সিং জানান যে আসামের গুয়াহাটির বরো ক্যান্সার হাসপাতালকে টাটা মেমরিয়াল  ক্যান্সার হাসপাতাল মুম্বাই তাদের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে, এই হাসপাতাল এ্যাটোমিক এনার্জী বিভাগের অধীনে কাজ করে। তিনি জানান উত্তর পূর্বাঞ্চলে এই প্রতিষ্ঠানে প্রথমবার অংকোলজি/ক্যান্সারে নিয়ে ডি এম এবং ম্যাচ সুপার স্পেশিয়ালিটি পাঠ্যক্রম  চালু হয়েছে। 

এ্যাটোমিক এনার্জী বিভাগ অন্যায় ক্ষেত্রেও অবদান জুগিয়ে চলেছে, উদাহরণ স্বরূপ ভাবা অটোমিক রিসার্চ সেন্টার নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য বুলেট প্রুফ জ্যাকেট তৈরি করছে এবং কৃষি ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার পদ্ধতি সব্জী এবং খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ দিন ধরে সংরক্ষণ সম্ভব করে তুলবে। (মূল রচনাঃ পদম সিং)