ভারত প্রতিরক্ষা রফতানি শুরু করেছে

For Sharing

ভারতের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নিট রফতানিকারক একটি দেশ হিসেবে গড়ে ওঠা। ভারত ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ভারত রফতানি ক্ষেত্রে ২০১৮ অর্থবছরে  ৪,৬৮২ কোটি টাকা থেকে  ২০১৯ অর্থবছরে তা দ্বিগুণ করে ১০,৭৪৫ কোটি টাকা  করতে সক্ষম হয়েছে।

আত্ম নির্ভর’ ভারত-এর অধীনে ভারত বিভিন্ন ধরণের প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষমতাকে বাড়ছে। ‘আকাশ’ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা যার ৯৬ শতাংশেরও বেশি দেশজ। ‘আকাশ’ ২৫ কিলোমিটার পাল্লার  ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপনাস্ত্র। এই ক্ষেপনাস্ত্রটি ভারতীয় বিমানবাহিনীতে ২০১৪ সালে এবং ভারতীয়  সশস্ত্র বাহিনীতে ২০১৫ সালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরে এই ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী এবং এয়ারো ইন্ডিয়ায় বেশ কয়েকটি বন্ধু দেশ আগ্রহ দেখায়। মন্ত্রীপরিষদের অনুমোদন,  বিভিন্ন দেশের জারি করা আরএফআই/আরএফপিতে অংশ নিতে ভারতীয় উত্পাদনকারীদের সহায়তা করবে।

এখনও পর্যন্ত, ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানীতে সরঞ্জাম বা  যন্ত্রের অংশ ও কিছু উপাদানই অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং বড় কোনো প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানি খুব কমই ছিল। মন্ত্রীসভার এই প্রয়াস দেশকে তার প্রতিরক্ষা পণ্যগুলি উন্নত করতে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সহায়তা করবে।

‘আকাশ’ ক্ষেপনাস্ত্রের রফতানি সংস্করণটি বর্তমানে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত ব্যবস্থাপনা  থেকে আলাদা হবে।

‘আকাশ’ ক্ষেপনাস্ত্র ছাড়াও অন্যান্য বিষয় যেমন উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থাপনা, র‍্যাডার এবং এয়ার প্ল্যাটফর্মগুলিতেও বিভিন্ন দেশ থেকে তীব্র আগ্রহ প্রাকশ করা হয়েছে। এ জাতীয় প্ল্যাটফর্ম রফতানির দ্রুত অনুমোদনের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি আমাদের দেশে তৈরি  প্রতিরক্ষা সামগ্রী বিভিন্ন দেশে  রফতানির সুপারিশ করবে। এই কমিটি বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা সহ  প্রতিরক্ষা সামগ্রী রফতানির বিকল্পগুলিও অনুসন্ধান করবে।

৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রতিরক্ষামূলক রফতানির লক্ষ্য অর্জন এবং বন্ধু দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের উন্নতিতে ভারত সরকার উচ্চমূল্যের প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম রফতানির বিষয়ে মনোনিবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

সরকার যেহেতু সরকারী ও বেসরকারী উভয় ক্ষেত্রের জন্য প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত করেছে তাই এই সব ক্ষেত্রে এখন এই প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নতুন দিল্লিতে ‘বাই ইন্ডিয়ান’ বিভাগের আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের জন্য ১,৩৫৫ কোটি টাকা মূল্যের ১০টি লিনাক্স ইউ ২ ফায়ার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার  জন্য রাষ্ট্রায়াত্ব ভারত ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড বা বিইএল-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। লিনাক্স ব্যবস্থাপনাটি দেশীয়ভাবে ডিজাইন করে তৈরি করা হয়েছে; এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রয়াসকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

লিনাক্স ইউ ২ জিএফসিএস হল নৌ-বাহিনীর একটি গন ফায়ার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা যা সামুদ্রিক অস্থির পরিস্থিতিতেও লক্ষ্য বস্তুকে খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এটি সঠিকভাবে আকাশে বা ভূমিতে থাকা লক্ষ্যবস্তুকে খুঁজে পেতে সক্ষম, অস্ত্র কোথায় রাখতে হবে ও প্রেরণ করতে হবে তার আগাম তথ্য দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টার্গেট ডেটা তৈরি করতে সক্ষম। লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানতে  রুশ একে ১৭৬, এ ১৯০ এবং এ কে ৬৩০ এবং জাহাজে উপলব্ধ এসআরজিএমের মতো মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার যুদ্ধাস্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

গান ফায়ার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনাটি একটি স্কেলযোগ্য আর্কিটেকচার সহ ডিজাইন করা হয়েছে যাতে অনেকগুলি বিভিন্ন কনফিগারেশনে সহজ এবং সরল প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থাপনা ভারতীয় নৌবাহিনীতে বিকাশিত ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সেটি সন্তোষজনকভাবে বিভিন্ন শ্রেণীর ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজের কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা যেমন ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেটস, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপযোগ্য নৌকা, রণতরিতে কাজ করছে।

প্রযুক্তিটি ধারাবাহিকভাবে উন্নীত হয়েছে এবং প্রযুক্তিটিকে সাম্প্রতিকতম করার কাজ দেশে করাই মূল লক্ষ্য ছিল। বিদেশী যন্ত্র নির্মাতাদের উপর নির্ভরশীলতা নির্মূল করার জন্য এই সব সামগ্রীর দেশজ অংশ ক্রমাগত বৃদ্ধি করা হয়েছে।  এই ব্যবস্থাপনাটি নৌ-বাহিনীর টহলদারী জাহাজ, তালওয়ার এবং তেগ শ্রেণির জাহাজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ট্র্যাকিং রাডার, সার্ভো এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ মডিউলগুলি সহ ব্যবস্থাপনাটি বিইএল সম্পূর্ণরূপে ডিজাইন ও বিকাশ করেছে। দেশজ এই ব্যবস্থাপনাটি বেশি দিন ধরে কার্যকর থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত করবে এবং সেই সময়কালে একটি উৎপাদিত সামগ্রীর সহায়তার নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

চুক্তিতে প্রস্তাবিত ব্যবস্থাপনাটি চতুর্থ প্রজন্মের এবং এটি  সম্পূর্ণ দেশজ ব্যবস্থাপনা, যা ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর মূল আদর্শের ভিত্তিতেই বিকশিত হয়েছে। বিইএল বেঙ্গালুরু এগুলি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরবরাহ করবে।

[মূল রচনা- পদম সিং]