আত্মনির্ভর ভারতে প্রবাসীদের ভূমিকা 

For Sharing

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর ষোড়শ প্রবাসী ভারতীয় দিবস উপলক্ষ্যে  আয়োজিত ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে ‘আত্মনির্ভর ভারতে প্রবাসীদের ভূমিকা’ শীর্ষক অধিবেশনে ভাষণ দেন। ডঃ জয়শঙ্কর বলেন, এই বিষয়ভাবনা আত্মনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্বব্যাপী প্রভাবগুলি তুলে ধরেছে। এটি প্রবাসীদের সঙ্গে আরও মজবুত সংযোগের নতুন পথ সৃষ্টিতে সহায়তা করেছে।  

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য হল বৃহত্তর জাতীয় সক্ষমতা গড়ে  তোলা যাতে বিশ্ব ক্ষেত্রে আমরা আরও ব্যাপক অবদান রাখতে পারি। এটি একটি  প্রশংসনীয় লক্ষ্য। তবে কোভিড – ১৯ অতিমারীর অভিজ্ঞতা আরও বিশ্বস্ত, স্থিতিশীল, নির্ভরযোগ্য এবং সরবরাহ শৃঙ্খলার প্রয়োজনকে বাড়িয়ে তুলেছে। সেই প্রয়াসে প্রবাসীদের যুক্ত করা স্বাভাবিক। দেশ নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রবাসী ভারতীয়রা সবসময়ই বিশেষ উৎসাহী ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয়ত, তাঁদের নিজস্ব ক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্য অর্জনকারী হওয়ায় তাঁরা এই কাজের জন্য যথাযথ সংস্থান, প্রযুক্তি, সেরা ব্যবস্থা এবং উদ্ভাবনের ব্যবহার করতে সক্ষম। তৃতীয়ত, তাঁরা এই ব্যাপক প্রয়াসকে প্রকৃত অর্থেই বিশ্বক্ষেত্রে জায়গা করে নেওয়ায় সহায়তা করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করে বলেন, এই মতবিনিময় এই প্রয়াসকে আরো বৃহত্তর অংশীদারিত্ব স্থাপনের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করবে।     

অতিমারী চলাকালীনই আত্মনির্ভরতার প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভর ভারত নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলির কথা তুলে ধরেন।  সেটা পিপিই এবং মাস্ক উত্পাদন বা ভেন্টিলেটর এবং পরীক্ষার কিটই হোক না কেন, ভারত চ্যালেঞ্জটির মুখোমুখি হওয়ার সাহস দেখিয়েছে। এই সংকল্পই এখন  আমাদের জাতীয় সক্ষমতা এবং সম্ভাবনা বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রয়াসে লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠছে। ১৩টি মূল ক্ষেত্রে উত্পাদনের সঙ্গে যুক্ত সাহসী প্রকল্প দেশের উত্পাদন ক্ষেত্রকে রূপান্তর করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একইভাবে এর ফলে কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তির জন্য সম্ভবণা প্রসারিত হবে। এ সমস্ত কিছুই নতুন ভারত গঠনের পদক্ষেপ এবং এই প্রয়াসে প্রবাসী ভারতীয়রা সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করছেন।     

প্রধানমন্ত্রী, আত্মনির্ভর ভারত প্রসঙ্গে তাঁর ভাষণে বলেন, “ভারত যখন স্বাবলম্বী হওয়ার কথা বলে, তা একটি আত্মকেন্দ্রিক ব্যবস্থাকে সমর্থন করে না। ভারতের  স্বনির্ভরতা প্রয়াসে সমগ্র বিশ্বের জন্য আনন্দ, সহযোগিতা এবং শান্তির জন্যও উদ্বেগ রয়েছে।” ডঃ জয়শঙ্কর এই বার্তাটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন কারণ ভারতের লক্ষ্যগুলির সার্বজনীনতা সম্পর্কে বিশ্বকে পুরোপুরি অবগত করাটা গুরুত্বপূর্ণ। 

বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া আমাদের বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের ভিত্তি। অতিমারীর সময়ে ওষুধের ক্ষেত্রে ভারত কেবল তার নিজস্ব প্রয়োজনই পূরণ করে নি, বিশ্বকে  তা সরবরাহ করেছিল।   

একইভাবে আমরা কেবলমাত্র আমাদের দেশের নাগরিকদেরই ঘরে ফিরিয়ে আনি নি, পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও নিয়ে এসেছি। বর্তমানে প্রতিষেধক সরবরাহের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে আমরা সম্পূর্ণভাবে আমাদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করব।  

এটা ঠিক যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সক্ষমতা এবং শক্তি  তৈরি করা ভারতের আকাঙ্ক্ষা। এটি করার জন্য আরও কৌশলগতভাবে চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা করার এবং প্রয়াসের প্রয়োজন রয়েছে। যে প্রইয়াস নেওয়া হচ্ছে তা জাতীয় প্রচেষ্টা হতে পারে তবে এটি প্রকৃতপক্ষে বিশ্বজনীন অংশীদারিত্ব ভিত্তিক। ভারত দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারী উভয়ের জন্যই ব্যবসা বাণিজ্য প্রক্রিয়া আরো সহজ করা  প্রয়াস নিচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য নিজস্ব বাণিজ্যের প্রসার, বিনিয়োগ এবং পরিষেবা বাড়ানো হলেও তা অবশ্যই আরও বৃহত্তর বিশ্ব ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রাখবে। দেশ হিসেবে আরো বৃহত্তর সক্ষমতা সম্পন্ন ভারত, বিশ্ব অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।  ভারত আন্তর্জাতিক বিধি ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একজন বিশ্বস্ত অংশীদার এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারীও হবে।   

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতে তৈরী কোভিড -১৯’এর প্রতিষেধক ভারতের আত্মনির্ভরতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। টিকা দেওয়ার প্রথম ধাপের সূচনা হলে ভারত সেই কয়েকটি দেশের অন্তর্ভূক্ত হবে যেখানে কোভিড -১৯ এর টিকাকরণ শুরু হয়েছে। ডঃ জয়সশঙ্কর বলেন, প্রবাসী ভারতীয়গণ আমাদের জাতীয় বিকাশ এবং আধুনিকীকরণের অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাঁদের প্রত্যাবর্তন ভারতের আত্মনির্ভরতা প্রয়াসে আরও বেশি সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। 

 (মূল রচনা – পদম সিং)