ভারতীয় নৌ বাহিনী- ভারত ও বন্ধু রাষ্ট্রের সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত

For Sharing

২০০৪ সালের শেষ এবং ২০০৫ সালের শুরু বিশ্ব জুড়ে বিশেষত এশিয়া জুড়ে অনেকের স্মৃতিতে চিরকালের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০০৫ সালে ক্রিসমাসের একদিন পরেই ইন্দোনেশিয়ায় বান্দা আচে সকাল ৭টা ৫৯ মিনিটে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৯.১ মাত্রার। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের ২০ মিনিটের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রায় এক লাখ মানুষ মারা যায়। এই ঘটনার ঠিক দেড় ঘণ্টা পর থাইল্যান্ডের কিছু অংশে বিধ্বংসী সুনামির আছড়ে পড়ে। বিধ্বংসী এই সুনামিতে প্রচুর মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর উপকূলে অবস্থিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং ভারতীয় উপমহাদেশে এই বিধ্বংসী জলচ্ছাস আছড়ে পড়েছিল। এর প্রভাবে শ্রীলংকার কিছু অংশ জলে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বিধ্বংসী এই সুনামিতে ২৩০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ভারত সহ দক্ষিণপূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ ভারতীয় সমুদ্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভারতীয় সেনা বাহিনী দ্রুত কাজে লেগে পড়ে। ভারতীয় নৌবাহিনী সর্ববৃহৎ মানবিক সহায়তা ও বিপর্যয় মোকাবিলা অভিযান ‘মদত’ এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের জন্য ‘সি ওয়েভ’ মালদ্বীপের জন্য ‘ক্যাস্টর’ শ্রীলংকার জন্য ‘রেইনবো’ এবং ইন্দোনেশিয়ার জন্য ‘গম্ভীর’ অভিযানের সূচনা করে। ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে এটিকে সর্ববৃহৎ অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নৌবাহিনী ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে ১৯টি জাহাজ এবং প্রচুর হেলিকপ্টার এবং বিমান মোতায়েন করে।
মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ অভিযানের আওতায় কি অন্তর্ভুক্ত তা বোঝা জরুরী। রাষ্ট্রসংঘ, প্রাকৃতিক অথবা মানব সৃষ্ট বিপর্যয়ের সময় যখন জাতীয় কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না সেই সব ক্ষেত্রে মানবিক ত্রাণ সহায়তার ওপর জোর দিয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ অভিযান HARD এবং ভারতীয় নৌবাহিনী একে অপরের পরিপূরক। ২০০৪ সালে সুনামি পরবর্তী সময়ের নৌ সহায়তার ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর HARD’র সক্ষমতা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনী বহু বছর ধরে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে বন্যা ও জল সম্পর্কিত ঘটনা ও দুর্ঘটনার সময় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৫ সালে ভারতের তেল সংস্থা ONGC’র তেল খননক্ষেত্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় ত্রাণ কার্য থেকে শুরু করে সম্প্রতি ভারতের পশ্চিম উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’র পর ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে ভারতীয় নৌবাহিনী দেশ ও দেশের নাগরিকদের সহায়তায় সর্বদা তৎপর। ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য ত্রাণ অভিযান হল ২০১৮ সালে কেরালায় ‘মদত’ অভিযান। ঐ সময় ভারতীয় নৌবাহিনী অসম সাহসের পরিচয় দিয়ে এরনাকুলাম ও ইদুক্কি জেলার জলমগ্ন হয়ে যাওয়া নিচু এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য চালায়।
ভারতীয় নৌবাহিনী প্রয়োজনের সময় দেশের নাগরিক এবং ভারত মহাসাগর ও তার বাইরেও বন্ধু রাষ্ট্রের নাগরিকদের সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত। ২০০৬ সালে লেবাননে ইজরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষের সময় বেইরুট থেকে ভারতীয় নাগরিক সহ শ্রীলংকা, নেপাল এবং লেবাননের মানুষদের উদ্ধার করে। ‘সুকুন’ নামে এই অভিযানের আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী যুদ্ধ বিধ্বস্ত ঐ এলাকা থেকে ২২৮০ মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসে।
ভারতীয় নৌবাহিনী বন্যাজনিত পরিস্থিতিতে শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং মোজাম্বিকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে এবং ত্রাণ সামগ্রী সেখানে পৌঁছে দিতে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ২০১৫ সালে ‘রাহত’ অভিযানের সময় ভারতীয় ও বিদেশী নাগরিকদের উদ্ধার করে। এই অভিযানকে সর্ববৃহৎ অসামরিক উদ্ধারকার্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অভিযানের আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনীর রণতরীতে করে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেনে আটকে পরা ১২৯১ জন বিদেশী সহ ৩০৭৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোভিড-১৯ অতিমারির সময়েও ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘সমুদ্র সেতু’ অভিযানের আওতায় প্রতিবেশী দেশগুলিতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বিদেশে আটকে পরা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি সফল করতে ভারতীয় নৌবাহিনীর মিশন ভিত্তিক মোতায়েন দর্শন সহায়ক হয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনী বিগত কয়েক দশক ধরে প্রতিটি অভিযান ও মিশনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে এসেছে। নৌবাহিনীর এই দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ও তার বাইরেও ভারতীয় নৌবাহিনীকে নির্ভরশীল নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। এই পরিষেবা আজ কেবলমাত্র দেশের নাগরিকদের জন্যই নয় প্রতিবেশী দেশের জন্যও এক পেশাদার, দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, অনিবার্য এবং নির্ভরযোগ্য বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যারা ভারত ও বন্ধু রাষ্ট্রের সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত। (মূল রচনাঃ সুমিত কুমার সিং)

২০০৪ সালের শেষ এবং ২০০৫ সালের শুরু বিশ্ব জুড়ে বিশেষত এশিয়া জুড়ে অনেকের স্মৃতিতে চিরকালের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২০০৫ সালে ক্রিসমাসের একদিন পরেই ইন্দোনেশিয়ায় বান্দা আচে সকাল ৭টা ৫৯ মিনিটে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৯.১ মাত্রার। এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের ২০ মিনিটের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রায় এক লাখ মানুষ মারা যায়। এই ঘটনার ঠিক দেড় ঘণ্টা পর থাইল্যান্ডের কিছু অংশে বিধ্বংসী সুনামির আছড়ে পড়ে। বিধ্বংসী এই সুনামিতে প্রচুর মানুষের প্রাণহানি ঘটে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর উপকূলে অবস্থিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং ভারতীয় উপমহাদেশে এই বিধ্বংসী জলচ্ছাস আছড়ে পড়েছিল। এর প্রভাবে শ্রীলংকার কিছু অংশ জলে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বিধ্বংসী এই সুনামিতে ২৩০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ভারত সহ দক্ষিণপূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ ভারতীয় সমুদ্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় অকল্পনীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভারতীয় সেনা বাহিনী দ্রুত কাজে লেগে পড়ে। ভারতীয় নৌবাহিনী সর্ববৃহৎ মানবিক সহায়তা ও বিপর্যয় মোকাবিলা অভিযান ‘মদত’ এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের জন্য ‘সি ওয়েভ’ মালদ্বীপের জন্য ‘ক্যাস্টর’ শ্রীলংকার জন্য ‘রেইনবো’ এবং ইন্দোনেশিয়ার জন্য ‘গম্ভীর’ অভিযানের সূচনা করে। ভারতীয় নৌবাহিনীর ইতিহাসে এটিকে সর্ববৃহৎ অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নৌবাহিনী ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে ১৯টি জাহাজ এবং প্রচুর হেলিকপ্টার এবং বিমান মোতায়েন করে।
মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ অভিযানের আওতায় কি অন্তর্ভুক্ত তা বোঝা জরুরী। রাষ্ট্রসংঘ, প্রাকৃতিক অথবা মানব সৃষ্ট বিপর্যয়ের সময় যখন জাতীয় কর্তৃপক্ষের একার পক্ষে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয় না সেই সব ক্ষেত্রে মানবিক ত্রাণ সহায়তার ওপর জোর দিয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ত্রাণ অভিযান HARD এবং ভারতীয় নৌবাহিনী একে অপরের পরিপূরক। ২০০৪ সালে সুনামি পরবর্তী সময়ের নৌ সহায়তার ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর HARD’র সক্ষমতা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনী বহু বছর ধরে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষ করে বন্যা ও জল সম্পর্কিত ঘটনা ও দুর্ঘটনার সময় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০০৫ সালে ভারতের তেল সংস্থা ONGC’র তেল খননক্ষেত্রে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সময় ত্রাণ কার্য থেকে শুরু করে সম্প্রতি ভারতের পশ্চিম উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’র পর ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে ভারতীয় নৌবাহিনী দেশ ও দেশের নাগরিকদের সহায়তায় সর্বদা তৎপর। ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি উল্লেখযোগ্য ত্রাণ অভিযান হল ২০১৮ সালে কেরালায় ‘মদত’ অভিযান। ঐ সময় ভারতীয় নৌবাহিনী অসম সাহসের পরিচয় দিয়ে এরনাকুলাম ও ইদুক্কি জেলার জলমগ্ন হয়ে যাওয়া নিচু এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্য চালায়।
ভারতীয় নৌবাহিনী প্রয়োজনের সময় দেশের নাগরিক এবং ভারত মহাসাগর ও তার বাইরেও বন্ধু রাষ্ট্রের নাগরিকদের সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত। ২০০৬ সালে লেবাননে ইজরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘর্ষের সময় বেইরুট থেকে ভারতীয় নাগরিক সহ শ্রীলংকা, নেপাল এবং লেবাননের মানুষদের উদ্ধার করে। ‘সুকুন’ নামে এই অভিযানের আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী যুদ্ধ বিধ্বস্ত ঐ এলাকা থেকে ২২৮০ মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসে।
ভারতীয় নৌবাহিনী বন্যাজনিত পরিস্থিতিতে শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং মোজাম্বিকে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে এবং ত্রাণ সামগ্রী সেখানে পৌঁছে দিতে সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ২০১৫ সালে ‘রাহত’ অভিযানের সময় ভারতীয় ও বিদেশী নাগরিকদের উদ্ধার করে। এই অভিযানকে সর্ববৃহৎ অসামরিক উদ্ধারকার্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই অভিযানের আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনীর রণতরীতে করে যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইয়েমেনে আটকে পরা ১২৯১ জন বিদেশী সহ ৩০৭৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোভিড-১৯ অতিমারির সময়েও ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘সমুদ্র সেতু’ অভিযানের আওতায় প্রতিবেশী দেশগুলিতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বিদেশে আটকে পরা ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি সফল করতে ভারতীয় নৌবাহিনীর মিশন ভিত্তিক মোতায়েন দর্শন সহায়ক হয়েছে।
ভারতীয় নৌবাহিনী বিগত কয়েক দশক ধরে প্রতিটি অভিযান ও মিশনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে এসেছে। নৌবাহিনীর এই দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ও তার বাইরেও ভারতীয় নৌবাহিনীকে নির্ভরশীল নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। এই পরিষেবা আজ কেবলমাত্র দেশের নাগরিকদের জন্যই নয় প্রতিবেশী দেশের জন্যও এক পেশাদার, দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, অনিবার্য এবং নির্ভরযোগ্য বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যারা ভারত ও বন্ধু রাষ্ট্রের সহায়তায় সর্বদা প্রস্তুত। (মূল রচনাঃ সুমিত কুমার সিং)