ভারত বিশ্বের বৃহত্তম কভিড ১৯ টিকাকরণ অভিযান চালু করবে

For Sharing

ভারত বিশ্বের এক বৃহত্তম অভিযানে ১৬ জানুয়ারি থেকে করোনভাইরাসের বিরুদ্ধে দেশের ১.৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার টিকাকরণ শুরু করবে। এই কঠিন এবং জটিল কাজের প্রথম ধাপে ৩০ মিলিয়ন ফ্রন্টলাইন কর্মী এবং স্বাস্থ্যকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এরপর ৫০ বছরের বেশি এবং শারীরিক অসুস্থতা ও সংক্রমণের অধিক ঝুঁকি সহ ৫০ বছরের কম বয়সী ২৭০ মিলিয়ন লোককে টিকা দেওয়া হবে। লক্ষ্য হল জুলাইয়ের মধ্যে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার প্রায় সমান ৩০০ মিলিয়ন মানুষকে টিকা দেওয়া। এই টিকা দেওয়ার মাত্রা হবে অভূতপূর্ব।
“ভারতে তৈরী” দুটি টিকা কোভ্যাক্সিন এবং কোভিশিল্ড সহ ভারত আন্তর্জাতিক টিকাকরণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে উদ্ভাবন, প্রস্তুত করণ থেকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
কোভ্যাক্সিন, ভারতের কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে প্রথম দেশে তৈরী টিকা হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক ফার্মা সংস্থা ভারত বায়োটেক তৈরি করেছে। দ্বিতীয়, কোভিশিল্ড, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা যৌথভাবে বিকাশ করে এবং এটি পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এস আই আই) প্রস্তুত করেছে।
ভ্যাকসিনগুলির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ভারত দেশে তৈরী দুটি করোনভাইরাস ভ্যাকসিন দিয়ে মানবতাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। এই দুটি টিকাকে সম্প্রতি ভারতের ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল “জরুরি অনুমোদন” প্রদান করেছে। অনুমোদিত ভ্যাকসিনগুলি বিশ্বজুড়ে অন্যান্য ভ্যাকসিনের তুলনায় খুবই ব্যয় সাশ্রয়ী।
বিশাল টিকাকরণ প্রয়াসের জন্য, ৭০০টি জেলায় প্রায় দেড় লক্ষ কর্মচারী বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ট সহযোগিতায় এই কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।
দেশের প্রস্তুতি পরীক্ষা করার জন্য, ৩৩ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৭৩৭টি জেলা জুড়ে ভ্যাকসিন এবং নকল ইনজেকশনের সাহায্যে মহড়া পরিবহন সহ জাতীয় স্তরে বেশ কয়েকটি ড্রাই রান বা পরীক্ষা চালানো হয়। এই সব ড্রাই রানের লক্ষ্য হ’ল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোভিড -19 টিকাদান সংক্রান্ত নির্ধারিত প্রক্রিয়াগুলি পরীক্ষা করা।
এই মহড়ার অন্য উদ্দেশ্য ছিল ব্লক, জেলা এবং রাজ্যস্তরে পরিকল্পনা, রূপায়ণ এবং রিপোর্টিংয়ের জন্য বাস্তব পরিবেশে “কো-উইন” সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) ব্যবহারের পরিচালনগত সম্ভাব্যতার মূল্যায়ন করা। কো-উইন অ্যাপের শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি দেশব্যাপী টিকাদান অনুশীলনের ভিত্তি এবং সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
সরকার ২৯,০০০ কোল্ড চেইন পয়েন্ট, ২৪০টি ওয়াক-ইন কুলার, ৭০টি ওয়াক-ইন ফ্রিজার, ৪৫,০০০ বরফযুক্ত রেফ্রিজারেটর, ৪১,০০০ ডিপ ফ্রিজার এবং ৩০০ টি সোলার রেফ্রিজারেটর তৈরী রেখেছে। ভ্যাকসিন সরবরাহ করার জন্য এবং তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত ভ্যানে রাজ্যের বিতরণ কেন্দ্রগুলিতে পরিবহনের জন্য চারটি বিশাল ডিপো স্থাপন করা হয়েছে।
গত বছর এই রোগের চিকিত্সা করার জন্য হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন (এইচসিকিউ) এর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পরে করোনভাইরাস ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে ভারত নেতৃত্ব দিয়েছে। বড় আকারের টিকদান অভিযানে ভারত নতুন নয়। দেশজুড়ে নির্বাচন করানো এবং শিশুদের জন্য পোলিও এবং যক্ষা রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচী থেকে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা ব্যবহার করা হবে এই কাজে।
ভারত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) কিট, মাস্ক, ভেন্টিলেটর এবং কোভিড -১৯ পরীক্ষার কিট বাইরে থেকে আমদানি করত। আজ, সারা বিশ্ব করোনভাইরাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করছে। ভারত ভ্যাকসিন উত্পাদন এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা স্থাপনের জন্য প্রস্তুত। অনেক দেশ এই টিকার লক্ষ লক্ষ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ ডোজ চেয়েছে, তাই ভারত কোভিড ভ্যাকসিনের হাব হয়ে উঠতে পারে।
ভারত নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং মায়ানমারে সীমিত সরবরাহ পাঠাবে। এছাড়া, প্রতিবেশী-ব্রাজিল, মরক্কো, সৌদি আরব এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারীভাবে ভারত থেকে ভ্যাকসিন চাওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। শুরু থেকেই, নতুন দিল্লি করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী অভিন্ন লড়াইয়ে প্রতিক্রিয়ার শীর্ষে ছিল। এই ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে।
বিশ্বব্যাপী, ভারত অন্য কোনও দেশের তুলনায় বেশি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। তারা “গাভি” কভ্যাক্স অ্যাডভান্স মার্কেট কমিটমেন্টের (এএমসি)তে উপলব্ধ এক বিলিয়নের বেশি ডোজ সরবরাহ করে ৯১ টি দেশের লোকদের সুরক্ষায় অবদান যোগাবে। বিশ্বজুড়ে কোভিড ভ্যাকসিনের উত্পাদন ও ন্যায়সঙ্গত সরবরাহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে, ভারত করোনা সঙ্কটের অবসান ঘটাতে বদ্ধপরিকর। (মূল রচনা: কে ভি ভেনকটাসুব্রামিয়ান)