ভারত ও নেপালের মধ্যে যোগাযোগ, অর্থনীতি এবং সুরক্ষা  সহ বেশ কয়েকটি সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা  

For Sharing

ভারত-নেপাল যৌথ কমিশনের ষষ্ঠ বৈঠকটি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডক্টর এস জয়শঙ্কর এবং নেপালের বিদেশ মন্ত্রী প্রদীপ কুমার গেওয়ালির যুগ্ম পৌরোহিত্যে নতুন দিল্লীতে অনুষ্ঠিত হয়। যৌথ কমিশন দু’দেশের মধ্যে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার সমস্ত দিকগুলির সর্বাত্মক পর্যালোচনা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে পরম্পরাগতভাবে ঘনিষ্ঠ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার দিশায় আলোচনা করেন।

উভয় পক্ষই যোগাযোগ, অর্থনীতি ও বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস, জলসম্পদ, রাজনৈতিক ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় সহ বেশ কয়েকটি সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে, বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্রয়াস গ্রহণের বিষয়ে যৌথ কমিশনের শেষ বৈঠকের পর থেকে যে অগ্রগতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হয়।

এই অঞ্চলে কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় উভয় পক্ষের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার উল্লেখ করা হয় এই বৈঠকে। ভারতে কোভিশিল্ড এবং কোভাক্সিন টিকা উত্পাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য নেপাল ভারতকে অভিনন্দন জানিয়েছে এবং নেপালকে এই টিকা ভারত যাতে দ্রুত সরবরাহ করে তার অনুরোধ জানিয়েছে।

মতিহারি-আমলেখগঞ্জ পেট্রোলিয়াম পণ্য পাইপলাইন তৈরির বিষয় স্মরণ করে, উভয় পক্ষ সেই পাইপলাইনকে চিতওয়ান পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং শিলিগুড়ি থেকে নেপালের ঝাপা পর্যন্ত পূর্ব দিকে একটি নতুন পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

উভয় পক্ষই জয়ানগর থেকে জনকপুর হয়ে কুর্থ পর্যন্ত ভারত ও নেপালের মধ্যে প্রথম যাত্রীবাহী রেলপথের কাজের সমাপ্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে ট্রেন পরিষেবা চালু করার জন্য অপারেটিং পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সম্ভাব্য রাকসৌল-কাঠমান্ডু ব্রডগেজ রেলপথ সহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত রেল যোগাযোগ প্রকল্পগুলি নিয়েও আলোচনা হয়।

যৌথ কমিশন মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনের ওপর জোর দিয়েছে। বীরগঞ্জ এবং বিরাটনগরে সম্প্রতি উদ্বোধিত ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টগুলি দুই দেশের মধ্যে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং বাণিজ্যকে সহায়তা করেছে বলেও এই বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।